ZMedia Purwodadi

পবিত্র বেদে নেশা ও জুয়া সম্পর্কে যা বলা হয়েছে

Table of Contents

পবিত্র বেদে নেশা ও জুয়া সম্পর্কে যা বলা হয়েছে,বেদ বানী

আজকাল আমাদের সমাজের বিশেষ করে তরুন ও যুবক, অনেক ক্ষেত্রে যুবতীরাও নেশাজাতীয় দ্রব্য গ্রহণ করছে। কিন্তু আপনারা জানেন কি ? বেদে সাতটি মহাপাপ এর কথা বলা হয়েছে তার মধ্যে নেশা / মদ্যপান একটি। এমন কি বেদে এটাও বলা হয়েছে, তোমার বন্ধু নেশাকারী হলে তার সঙ্গ ত্যাগ করো।

চলুন জেনে নেওয়া যাক,পবিত্র বেদে নেশা ও জুয়া সম্পর্কে কী বলা হয়েছে।

মহর্ষি যস্ক তার নিরুক্ত সংহিতায় বেদের সেই সাতটি মহাপাপ এর কথা উল্লেখ করেছেন,

সেগুলো হল, “চুরি, অশ্লীলতা ও ব্যভিচার, হত্যা, ভ্রূননিধন, অগ্নিসংযোগ, নেশা/মদ্যপান, অসততা।”


মনুসংহিতায় বলা হয়েছে,

সুরা বৈ মলমন্নানাং পা চ

মলমুচ্যতে তস্মন ব্রাহ্মন

রাজন্যোবৈশ্যশ্চ ন সুরাং পিবেত্।

-মনুসংহিতা ১১.৯৪


অর্থাৎ, সুরা হল অন্নের মলস্বরুপ, পাপরুপ। তাই ব্রাহ্মন, ক্ষত্রিয় নির্বিশেষে সকলের জন্যে অবশ্য বর্জনীয়।

বেদে আরো বলা হয়েছে ,

নকী রেবন্তং সখ্যায় বিন্দসে পীয়ন্তি তে সুরাশ্ব।

যদা কৃণোষি নদনুং সমূহস্যাদিত পিতেব হূয়সে।।

(ঋগ্বেদ ৮/২১/১৪)

অর্থাৎ, তোমার নেশাকারী বন্ধু যদি বিদ্বান বা ধনীও হয়, তারপরেও বজ্রপাততূল্য এবং অবশ্য পরিত্যজ্য।

 শুধু নেশাজাতীয় দ্রব্য নয় বেদে জুয়াখেলাকেও নিষিদ্ধ বলা হয়েছে।

অক্ষৈর্মা দিব্যঃ কৃষিমিত কৃষস্ব বিত্তে রমস্ব বহু মন্যমানঃ।

তত্র গাবঃ কিতব তত্র জায়া তন্মে বি চষ্টে সবিতায়মর্য।।

(ঋগ্বেদ ১০.৩৪.১৩)

অর্থাৎ,” হে মনুষ্য, জুয়া বা পাশা খেলোনা, তোমার ভুমি আছে, অর্থসম্পত্তি আছে তাই নিয়ে সন্তুষ্ট থাকো। তোমার পরিবার আছে, স্ত্রী আছে এসব নিয়ে সুখে থাকো। এটাই আলোকপ্রদর্শনকারী পরমাত্মার প্রদত্ত জ্ঞান।”

তাই আসুন সনাতনীরা, নেশাজাতীয় দ্রব্য পরিহার করি, সেই সাথে যারা নেশা করে তাদের সঙ্গ পরিহার করি, জুয়া বা পাশাখেলা থেকে নিজেকে বিরত রাখি, ধর্মগ্রন্থ অনুসরণ করি ও আদর্শ সনাতনী সমাজ গড়ি। ইহাই পরমাত্মার নির্দেশ।


একটি মন্তব্য পোস্ট করুন